বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তার পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছেন দেশের পেশাদার ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) আগেই সময়সীমা বেঁধে দিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিপিএলের দিনের প্রথম ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো দল মাঠে নামেনি। ফলে চলমান টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ছয় দলের ক্রিকেটারদের জরুরি সমাবেশ
উদ্ভূত সংকটের মধ্যে বিপিএলে অংশ নেওয়া ছয়টি দলের ক্রিকেটাররা রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে জড়ো হতে শুরু করেছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এ পরিস্থিতিতে কোয়াব আজ দুপুর ১টায় সেখানে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

মন্তব্য থেকেই সংকটের সূত্রপাত
বিসিবির পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ও ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খেলোয়াড়রা মাঠে না নামলে বোর্ডের তেমন ক্ষতি হবে না; বরং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ক্রিকেটাররাই, কারণ ম্যাচ খেললেই তারা ফি ও বোনাস পান।
তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স না এলেও বোর্ড বেতন কমায় না কিংবা বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত দাবি করে না। এই বক্তব্যকে ক্রিকেটাররা তাদের পেশাদারিত্ব ও সম্মানের পরিপন্থী বলে মনে করছেন।
কোয়াবের কড়া অবস্থান
নাজমুলের বক্তব্যের প্রতিবাদে বুধবার রাতেই কোয়াবের পক্ষ থেকে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন সেখানে স্পষ্ট করে জানান, একজন বোর্ড পরিচালকের কাছ থেকে এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না এলে ক্রিকেটাররা বিপিএলের ম্যাচে অংশ নেবেন না। সময়সীমা শেষ হলেও কোনো সমাধান না আসায় ক্রিকেটাররা পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ম্যাচ বর্জন করে হোটেলে সমবেত হন। এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বিপিএলের মতো বড় আয়োজনকে কার্যত স্থবির করে দিয়েছে।
সমাধানের অপেক্ষায় দেশের ক্রিকেট
বর্তমানে হোটেল প্রাঙ্গণে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্রিকেটাররা জানিয়েছেন, সম্মান ও ন্যায্যতার প্রশ্নে তারা কোনো ছাড় দেবেন না। তবে এ সংকট নিরসনে বিসিবির শীর্ষ মহল থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। আজকের সংবাদ সম্মেলন থেকে কোয়াব নতুন কোনো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে বিপিএলের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সূচিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।