ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (FY26) শেষে মুদ্রাস্ফীতি ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে, যদি বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার নির্ধারিত নীতি অব্যাহত রাখে।
গভর্নর মনসুর ঢাকা-তে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (BIDA) দ্বারা আয়োজিত একটি বিনিয়োগ সংলাপে বিচারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ৮.২ শতাংশের কাছাকাছি এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রায় ৭.৩ শতাংশে নামেছে, যা ইতিবাচক অগ্রগতি দেখাচ্ছে। এই প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুনের দিকে মুদ্রাস্ফীতি ৫% এর নিচে নামাতে সক্ষম হবেন বলে তিনি আশা করেন।
তিনি আরও বলেন, মুদ্রাস্ফীতি কমানোর জন্য কঠোর সঙ্কোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং উচ্চ সুদের হার বজায় রাখাটাই এখন পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্য না পৌঁছালে সুদের হার হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না এবং এটি ধীরে ধীরে পরিচালিত হবে।
মুদ্রানীতি ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি FY26-এ কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রেখে এসেছে, যেখানে পলিসি রেট ১০% অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। গত বছর থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করে মূল্যস্ফীতি কমাতে কাজ করে যাচ্ছে।
এই নীতির ফলে ইতোমধ্যেই কিছু ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি কমার সূচনা দেখা গেছে এবং আগামী মাসগুলোতে যদি খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মূল্যের চাপ কমতে থাকে, মুদ্রাস্ফীতির নিম্নমুখী প্রবণতা আরও শক্তিশালী হবে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।
বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি আগামী দুই বছরে ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে এবং FY27-এ তা প্রায় ৫.৫%-এ নামবে বলে তারা আশা করছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সংস্থা FY26-এর জন্য মুদ্রাস্ফীতি ও জিডিপি-র বিভিন্ন পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে, কিন্তু তাদের মতে আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো বাস্তবে কতটা সফল হবে তা কিছুটা অনিশ্চিত। তবে BB গভর্নর মুদ্রাস্ফীতি কমানোর সম্ভাব্যতা সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন।
অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতের দিক
গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি কমানোর কাজ চলছে এবং এটি যদি স্থিতিশীল থাকে, তাহলে FY26 শেষে ৫% বা তার নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব। তবে এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে মুদ্রানীতি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলিকে সময়োপযোগী ও কার্যকর রাখতে হবে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজার ও অভ্যন্তরীণ চাপের মোকাবেলায়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নিলামে প্রায় ১৭১ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে, যা বিদেশী মুদ্রার বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রাস্ফীতি স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে।
নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান