ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে লড়াই করবে

admin
By admin
3 Min Read

গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ দিন শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটি ঘোষণা করেছে যে, তারা আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো জোট ছাড়াই স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করবে।

দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন নিজেদের মনোনয়নপত্র ২৭০টি আসনে জমা দিয়েছিল, তবে কিছু কারণে দুইটি আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় শুধুমাত্র ২৬৮টি আসনে তাদের প্রার্থী দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।

জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট থেকে আলাদা

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
২৬৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা

একক লড়াইয়ের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ

দলের সিদ্ধান্তটি এসেছে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নির্বাচনী জোটের সঙ্গে সমঝোতা ব্যর্থ হওয়ার পর। এই জোট ঘোষণায় ইসলামী আন্দোলনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া বা আসন বরাদ্দে সন্তোষ প্রকাশ না করায় এবং দলে সঠিকভাবে ন্যায্য অংশ পাবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়ের কারণে দলটি জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

গাজী আতাউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দলটি ইসলামিক নীতি ও আদর্শের প্রতি ন্যায্য আচরণ না হলে কোনো জোটে থাকতে রাজি নয় এবং তাই সব প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার না করে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।

২৬৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা — দল কী বলছে?

ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে:

  • ২৬৮টি আসনে প্রার্থীরা নিজ নিজ জায়গায় নির্বাচন লড়াইয়ের জন্য মাঠে কাজ করছেন।
  • কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না এবং নির্ধারিত আসনে পুরোপুরি লড়াই করবেন।
  • যারা মনোনয়ন শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে দল আপিল বা আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও ২৬৮টি আসনেই স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন হচ্ছে।

এছাড়া দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাকি ৩২টি আসনে তারা সেইসব প্রার্থীদের সমর্থন দিতে পারে, যাদের নীতি-আদর্শ ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে মিল রয়েছে — যদিও সেসব প্রার্থীর নাম পরে ঘোষণা করা হবে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

এই সিদ্ধান্ত আসেছে এমন এক সময় যখন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বড়-বড় রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো তাদের আসন সমঝোতা ও জোট বিন্যাস নিশ্চিত করছে। বৃহস্পতিবার জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১-দলের জোট ২৫৩টি আসনের জন্য তাদের প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করেছে, যেখানে ইসলামী আন্দোলনকে উদ্দেশ্যত পার্টির আসন সংখ্যা বা অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

এ অবস্থায় ইসলামী আন্দোলন নিজের ভিত্তিতে নির্বাচন লড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে বলেছেন যে, তারা নিজস্ব ভোট ব্যাংক ও সমর্থকদের পূর্ণ ভোট একত্রিত করতে চায় এবং দলীয় পরিচয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার চেষ্টা করবে।

Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *